চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের আলোচিত জঙ্গল সলিমপুরে সরকারি স্থাপনা নির্মাণের খবরকে কেন্দ্র করে উচ্ছেদের আশঙ্কায় বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে জুমার নামাজের পর চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলমের পরিদর্শনের সময় এ বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনাই একপর্যায়ে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের লাঠিচার্জ করতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যমতে, জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর স্কুলে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করতে গিয়েছিলেন পুলিশ সুপার। তাঁর আগমনের খবর পেয়ে উচ্ছেদ আতঙ্কে থাকা নারীসহ বিপুলসংখ্যক বাসিন্দা লিফলেট হাতে সেখানে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভকারীরা 'নিজের টাকা দিয়ে জায়গা কিনেছি, সেই জায়গা ফেরত চাই' স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে তাঁদের বাগবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি শুরু হলে পুলিশ ও বিজিবি লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
স্থানীয় অধিবাসীদের দাবি, নিজেদের উপার্জিত অর্থে কেনা জমি ও বসতভিটা থেকে কোনোভাবেই তাঁদের উচ্ছেদ করা যাবে না। সরকারি প্রয়োজনে জমি অধিগ্রহণের কথা থাকলে তা আইন অনুযায়ী উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেই সম্পন্ন করতে হবে। তাঁরা উন্নয়নের বিরোধী নন, তবে পরিবার-পরিজন নিয়ে যেন পথে বসতে না হয়, সে বিষয়ে জোর দাবি জানান।
বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সরকারি পরিকল্পনা নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি ও ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি প্রয়োজনে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি হলে তা আইন মেনেই অধিগ্রহণ করা হবে এবং খাসজমির ক্ষেত্রে সরকারি নিয়মে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকেই জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হবে না বলে স্থানীয়দের আশ্বস্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৮ অক্টোবর সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জঙ্গল সলিমপুরে সারদার আদলে একটি আধুনিক পুলিশ অ্যাকাডেমি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এজন্য সেখানে প্রায় ৭২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, যেখানে বিজিবি, এসআরবি ও এপিবিএন-এর বিভিন্ন স্থাপনাও নির্মিত হবে।