ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চোরবাজার সার্বজনীন পূজা প্যান্ডেলে অতিরিক্ত ভিড় এবং প্যান্ডেল ভেঙে পড়ার আতঙ্কে পদদলিত হয়ে ১৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার রাত প্রায় ৮টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএনআই জানায়, ক্রমাগত বৃষ্টির কারণে পূজামণ্ডপে উপচে পড়া ভিড় জমেছিল। বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা পেতে প্যান্ডেলের ভেতরে থাকা লোকজন বাইরে যেতে রাজি হচ্ছিলেন না, এর মধ্যে বাইরে থেকে আরও মানুষ ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। যদিও পুলিশ প্রশাসন সক্রিয় ছিল, তবুও অতিরিক্ত মানুষের চাপ সামলানো সম্ভব হয়নি।
পরিস্থিতি সামাল দিতে প্যান্ডেল কমিটি মাইকে বারবার মানুষজনকে বাইরে চলে যাওয়ার তাগাদা দিতে থাকে। একপর্যায়ে ঘোষণা করা হয় যে অতিরিক্ত মানুষের চাপে প্যান্ডেলটি ভেঙে পড়তে পারে। এই ঘোষণায় মুহূর্তের মধ্যে প্যান্ডেলের ভেতরে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সবাই একসঙ্গে হুড়োহুড়ি করে বের হওয়ার চেষ্টা করলে পদদলনের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে, যা কেড়ে নেয় ১৯টি তাজা প্রাণ। নিহতদের মধ্যে ১৪ জন নারী, একজন শিশু এবং বাকিরা প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে জানিয়েছেন, বর্তমানে হাসপাতালে ২৫ জন আহত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন আছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও বাকিদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। তিনি নিহতদের পরিবারকে ২৫ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের একজন সদস্যকে 'ডি' গ্রেডের সরকারি চাকরি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি আহতদের প্রত্যেককে ৫ লাখ রুপি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, পুরো ঘটনার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হবে। তদন্তে প্যান্ডেল কমিটি বা সংশ্লিষ্ট কারও কোনো ধরনের গাফিলতি প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে এই মর্মান্তিক ঘটনায় পূজা প্যান্ডেল কমিটির সদস্যসহ মোট ১২ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।