ঘটনার সময় ঢাকায় সাভারের ভাড়া বাসায় অবস্থান করা সত্ত্বেও নওগাঁর আত্রাইয়ে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে চাঁদা দাবি ও হুমকির অভিযোগে সাংবাদিক সিফাত মাহমুদ ফাহিমের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ করেছে তার পরিবার।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান ফাহিমের স্বজনরা। সংবাদ সম্মেলনে ফাহিমের বাবা ওসমান আলী প্রামানিক, মা শেফালী বেগম, ভাই ফিরোজ প্রামানিক ও খালাতো ভাই নাজমুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

দৈনিক ইনকিলাবের আত্রাই প্রতিনিধি ফাহিমের বিরুদ্ধে নওগাঁর ৮ নম্বর আমলি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন ২ নম্বর ভোঁপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. নাজিম উদ্দিন মণ্ডল। মামলার পর দণ্ডবিধির ৩৮৫ ও ৫০০ ধারায় ফাহিমের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। গত ১৪ অক্টোবর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পরিবারের অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদনে আত্রাই থানার তৎকালীন এসআই মো. সেলিমুজ্জামান ফাহিমের উপস্থিতি ইউপি কার্যালয়ে দেখালেও ঘটনার দিন ফাহিম সাভারে নিজ বাসায় অবস্থান করছিলেন। এছাড়া তদন্তে বর্ণিত গ্রাম পুলিশ মো. আনোয়ার হোসেন জানান, এ বিষয়ে কোনো কর্মকর্তা তার কাছে যাননি। অন্য দুই সাক্ষী সবুজ হোসেন ও শহিদুল ইসলাম হলফনামার মাধ্যমে ঘটনা জানেন না বলে জানিয়েছেন এবং অপর সাক্ষী আল আমিন খাঁ বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন।

ইউপি চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন মণ্ডলের বিরুদ্ধে সরকারি মালামাল নিজ বাড়িতে নেওয়ার অভিযোগ এবং পরবর্তীতে ধর্ষণ মামলায় তার গ্রেফতারের খবর দৈনিক ইনকিলাবসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি ফাহিমকে চাঁদাবাজির মামলায় ফাঁসিয়েছেন বলে দাবি পরিবারের। সংবাদ সম্মেলন থেকে মামলাটির নিরপেক্ষ পুনঃতদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উন্মোচন এবং মিথ্যা মামলা দায়েরকারী ও অসত্য তদন্ত প্রতিবেদন জমাদানকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়।