চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা পচনশীল পণ্য দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। এর অংশ হিসেবে ৫টি কনটেইনারে থাকা প্রায় ১২৬ টন তাজা আপেল ও আদা নিলামে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের প্রকাশিত ই-নিলাম বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী পুরো প্রক্রিয়ার বিস্তারিত বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো।
দুটি ৪০ ফুট কনটেইনারে রয়েছে মোট ৪৭ হাজার ৪৪০ কেজি তাজা আপেল। দুই চালানের মোট সংরক্ষিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৯২ লাখ ৮৩ হাজার ২৩৮ টাকা ৪২ পয়সা। অন্যদিকে, তিনটি ৪০ ফুট কনটেইনারে রয়েছে মোট ৭৮ হাজার ৩০০ কেজি তাজা আদা। যার মোট সংরক্ষিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৭ লাখ ৭ হাজার ৮৬১ টাকা ৫৫ পয়সা। সব মিলিয়ে ৫টি পণ্যচালানের সর্বমোট সংরক্ষিত মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৭৯ লাখ ৯১ হাজার ৯৯ টাকা ৯৭ পয়সা।
৪ নভেম্বর সকাল ৯টা থেকে আগামী ৯ নভেম্বর দুপুর ২টা পর্যন্ত অনলাইনে দরপত্র জমা দেওয়া যাবে। আগ্রহী ক্রেতারা আগামী ৫ নভেম্বর অফিস চলাকালীন সময়ে সরেজমিনে বন্দরে গিয়ে পণ্যগুলো পরিদর্শন করতে পারবেন। 'যে অবস্থায় আছে' সেই শর্তে পণ্য বিক্রি করা হবে। নিলামে অংশ নিতে নির্ধারিত সংরক্ষিত মূল্যের ৫ শতাংশ জামানত হিসেবে পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে কমিশনার, কাস্টম হাউস, চট্টগ্রাম বরাবর জমা দিতে হবে। আগামী ৯ নভেম্বর দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে কাস্টম হাউসের নিলাম শাখায় দরপত্র উন্মুক্ত করা হবে। সর্বোচ্চ দর অনুমোদিত হলে ডাকমূল্যের ওপর ১০ শতাংশ অগ্রিম আয়কর ও ১৫ শতাংশ ভ্যাট পরিশোধ করে পণ্য খালাস নিতে হবে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নিলামের দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার নাজমুল হোসেন জানান, পচনশীল পণ্য দীর্ঘদিন বন্দরে আটকে থাকলে মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বন্দরের মূল্যবান জায়গাও দখল হয়ে থাকে। বন্দরের পণ্যজট কমানো, ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সরকারি রাজস্ব সংরক্ষণের লক্ষ্যেই এই দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।