সিধুলী মাদরাসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

আব্দুল আলিম, জেলা প্রতিনিধি নাটোরঃ নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের সিধুলী হাটের টাকা মাদরাসায় উঠানোকে কেন্দ্র করে উদ্ভুত পরিস্থিতি ও বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অপ্রপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৯ এপ্রিল) সকাল ১১ টায় উপজেলার ধারাবারিষার নয়াবাজারে ওই সংবাদ সম্মেল করেন ধাবারারিষা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. রুবেল হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রুবেল হোসেন বলেন, আমরা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে সম্মান করি। মাদরাসার পক্ষে ছিলাম, আছি ভবিষ্যতে থাকব। আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পুর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন । মুলত রাজনৈতিকভাবে আমাদের মানক্ষুন্ন করার জন্য তারা অপ্রপ্রচার চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘শিধুলী, চলনালী, পোয়ালশুড়া হযরত ওসমান (র.) হাফেজিয়া ও কওমি মাদরাসার সভাপতি পদে রয়েছেন ফ্যাসিস সরকারের গুরুদাসপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মতিনের বড় ভাই আব্দুল মজিদ। সভাপতি পদে থেকে মাদরাসার নাম করে যে টাকা উত্তলোন করা হয় তার নাম মাত্র মাদরাসায় দিয়ে বাকী টাকা আত্মসাৎ করেন তারা। বিষয়টি সামনে আসে ১৪ এপ্রিল ১লা বৈশাখে হাটের খাজনা উঠাতে গেলে। সরকারিভাবে ডাকের মাধ্যমে নয়াবাজারের হাটটি আমরা ইজারা নেই। তবে নয়াবাজারের প্রায় ৩ কিলোমিটার দুরে সিধুলী হাটটি পেরিফেরিভুক্ত নয়। ওই হাটে খাজনা উঠাতে গেলে মাদরাসা কমিটি আমাদের খাজনা উঠাতে নিষেধ করে। ওই বিষয় নিয়ে আমাদের লোকজনের সাথে কথাকাটাকাটিও হয়। এরপর হাট কমিটি বিষয়টি সেবাহীনিকে জানালে তারা উভয়পক্ষকে খাজনা উঠাতে নিষেধ করেন। আমরা সিধুলী হাটে খাজনা উঠানো বন্ধ করি। কিন্তু সেনাবাহীনির আদেশ অমান্য করে গত ১৫ এপ্রিল মাদরাসা কমিটির সদস্যরা আবার খাজনা আদায় করে। খবর পেয়ে সেনাবাহীনির টহলদল তাদের রশিদ ও টাকাসহ তাদের হাতেনাতে আটক করে গুরুদাসপুর থানায় নিয়ে যায়। থানায় ডেকে আমাকে বাদী করে মামলা দায়ের করে আসামীদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কিন্তু ফ্যাসিস সরকারের দালালেরা উক্ত বিষয় নিয়ে নাটোর জেলা বিএনপির সিনিয়র আহবায়ক মো. আব্দুল আজিজ সাহেবকে সম্পৃক্ত করে মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচার চালাচ্ছে। আব্দুল আজিজ সাহেব এই বিষয়ের সাথে কোনভাবেই সম্পৃক্ত নাই। কুচক্রি মহলের কিছু লোকজন তাদের নিজেদের অপরাধ ঢাকতে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মাদরাসাকে পুঁজি করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবদী দল বিএনপি ও আব্দুল আজিজ সাহেবের রাজনৈতিক ইমেজ ও মানখুন্ন করার জন্য বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানান তিনি।

এলাকাবাসীর পক্ষে আশরাফুল ইসলাম আসাদ বলেন, সিধুলী হাটের টাকা উত্তোলন করে মাদরাসার নাম ভাংগিয়ে স্থানীয় কিছু লোক আত্মসাৎ করতেন। আমি এর প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই। তবে গতকাল মাদরাসার পক্ষে তিনিই আব্দুল আজিজে বিপক্ষেই বক্তব্য দিয়েছিলেন।

ধারাবারিষা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহিন কাওসার বলেন, নাটোর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মো. আব্দুল আজিজ সাহেব একজন ভালো মনের মানুষ। মাদরাসার বিষয়ে তিনি কোনভাবে জড়িত নয়। আমি উক্ত বিষয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

নাটোর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মো. আব্দুল আজিজ বলেন- ‘শিধুলী, চলনালী, পোয়ালশুড়া হযরত ওসমান (র.) হাফেজিয়া ও কওমি মাদরাসা’র নাম করে স্থানীয় কিছু লোকজন বিগত দিনে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করতেন। আর মাদরাসার টাকা ভাগাভাগী নিয়ে যে অভিযোগ আমার নামে করা হচ্ছে তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। উক্ত ঘটনার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নাই। মাদরাসার সভাপতি ও থানা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আব্দুল মজিদ ধর্মীয় অনুভুতিকে কাজে লাগিয়ে আমার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ইমেজ নষ্ট করার জন্য আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।

মাদরাসার সভাপতি মো. আব্দুল মজিদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমি অসুস্থ রয়েছি। ৫ আগস্টে সরকার পতনের পর থেকে মাদরাসায় যাই নি। এ বিষয়ে তিনি আর কোনো মন্তব্য করেন নি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button