ইসির অনুমতি ছাড়াই পাসপোর্ট অধিদপ্তরে গণবদলি

ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কোনো প্রকার তোয়াক্কা না করেই ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে একযোগে বদলি করেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তোয়াক্কা না করেই ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে একযোগে বদলি ও সংযুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনী তফসিল চলাকালীন ইসির পূর্বানুমতি ছাড়া এ ধরনের বদলি প্রচলিত আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ১৪ জানুয়ারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ার এবং উপপরিচালক (প্রশাসন) তারিক সালমান স্বাক্ষরিত পৃথক চারটি আদেশের মাধ্যমে এই রদবদল করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে:

৫ জন উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) যাদের কুমিল্লা, ঝালকাঠি, ভোলা ও নরসিংদীর মতো গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক অফিসে বদলি করা হয়েছে। ১৩ জন কর্মচারী,  এর মধ্যে সুপারিনটেনডেন্ট, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক এবং ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদমর্যাদার কর্মীরা রয়েছেন।

গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের (আরপিও) ৪৪-ঙ (২) ধারা অনুযায়ী, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ইসির লিখিত অনাপত্তি ছাড়া কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি করা নিষিদ্ধ। নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে এই বিধান বাধ্যতামূলক হলেও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের আদেশে এমন কোনো অনুমোদনের উল্লেখ নেই।

নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট শাখা জানিয়েছে, অধিদপ্তর থেকে এমন কোনো বদলির অনুমতি চাওয়া হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।

অন্যদিকে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখার উপপরিচালক তারিক সালমান ‘ফাইল দেখে জানাবেন’ বললেও পরবর্তীতে আর ফোন ধরেননি। এমনকি নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদকেও ফোনে পাওয়া যায়নি।

বদলিকৃতদের আগামী ১৯ ও ২১ জানুয়ারির মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তারা বর্তমান কর্মস্থল থেকে ‘স্বয়ংক্রিয় অবমুক্ত’ বলে গণ্য হবেন বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়। ইসির নজর এড়িয়ে তড়িঘড়ি করে এই বদলিকে প্রশাসন কর্তৃক কমিশনকে ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি’ দেখানোর শামিল বলে মনে করছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button