যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ধরাশায়ী হলো বাংলাদেশ

প্রথম বেলা ডেস্ক

আর মাত্র ১০ দিন পরেই মাঠে গড়াবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটের বৈশ্বিক এই আসরে বরাবরই ব্যর্থ বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে হওয়া এবারের বিশ্বকাপে ভালো কিছু করার আশায় টাইগাররা তাই বেশ আগেই পাড়ি জমিয়েছে মার্কিন মূলকে। উদ্দেশ্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কন্ডিশন ও উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া।

তাই সহআয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজও খেলবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। আশা যুক্তরাষ্ট্রকে উড়িয়ে ভালোভাবেই বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সারা। তবে সেই আশা প্রথমেই হলো ভঙ্গ। আইসিসির সহযোগী এই দেশের কাছে প্রথম টি-টোয়েন্টিতেই পরাস্ত হয়েছে র‍্যাঙ্কিংয়ে দশ ধাপ এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ দল।

মঙ্গলবার (২১ মে) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে প্রেইরি ভিউ ক্রিকেট কমপ্লেক্সে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটিতে ৫ উইকেটে হেরেছে টাইগাররা। টাইগারদের দেওয়া ১৫৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৩ বল হাতে রেখে জিতেছে স্বাগতিকরা।

আজকের ম্যাচের আগে কখনোই ক্রিকেটে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দেখা হয়নি। ক্রিকেটে তুলনামূলক নতুন এ দলটি এর আগে আইসিসির পূর্ণ সদস্যের একমাত্র দল হিসেবে হারিয়েছিল আয়ারল্যান্ডকে। আর আজ বাংলাদেশকে হারিয়ে নতুন ইতিহাস লিখে ফেলল মোন্যাক প্যাটেলের দল।

বাংলাদেশের দেওয়া ১৫৪ রানের টার্গেট বর্তমান টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের প্রেক্ষিতে খুব বেশি মনে না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের মন্থর পিচে এটি অনেক বড় মনে হওয়ার কথা। এ ছাড়াও বাংলাদেশের বোলিং লাইনআপও জানে কীভাবে এ রকম উইকেটে ম্যাচ জিততে হয়। তবে বাংলাদেশের বোলাররা জানলেও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটারদের কাছে তারা কোনো পাত্তাই পায়নি।

রান তাড়ায় নেমে প্রথম তিন ওভারেই কোনো উইকেট না হারিয়ে ২৭ রান তুলে ফেলে যুক্তরাষ্ট্র। স্বাগতিকদের দুই ওপেনারের মধ্যে অধিনায়ক মোন্যাক প্যাটেল ১০ ও স্টিভেন টেলর ২৮ রান করেন। বাংলাদেশ প্রথম উইকেটে দেখা পায় ভাগ্যের জোরে চতুর্থ ওভারের শুরুতে শরিফুলের হাতে লেগে রান আউট হন প্যাটেল।

প্যাটেল আউট হলেও টেলর তিনে নামা গুসকে নিয়ে এগোতে থাকেন। দুজনের মধ্যকার ৩৮ রানের জুটির পর ২৩ রান করে বিদায় নেন গুস। এরপর রীতিমতো ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। পরের ২৯ রান তুলতেই হারাতে হয় টেলর, অ্যারন জোন্স ও নিতিশ কুমারকে। ১৫ ওভার শেষে ৯৫ রান করা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশের এই টার্গেট তখনও অনেক দূরে। তবে তখনও ক্রিজে আছেন এক সময় নিউজিল্যান্ডের হয়ে মাঠ মাতানো অলরাউন্ডার কোরি অ্যান্ডারসন।

হারমিত সিংকে নিয়ে দলের হাল ধরেন তিনি। এই দুজনের ব্যাটে চড়ে শেষ ২০ বলে ৫০ রানের লক্ষ্যমাত্রা পেরিয়ে যায় স্বাগতিকরা। একপ্রান্ত আগলে থাকা কোরি অ্যান্ডারসন ২৫ বলে ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন। ম্যাচ সেরা হওয়া তার সঙ্গী হারমিত ১৩ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ৩৩ রানের ঝড় তুলে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন তারা দুজন। বাংলাদেশের হয়ে মোস্তাফিজ ৪ ওভারে ৪১ রান খরচে দুই উইকেট নেন। একটি করে শিকার রিশাদ হোসেন ও শরিফুল ইসলামের।

এর আগে টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং করে রীতিমতো অসহায় অবস্থা ছিল বাংলাদেশের ব্যাটারদের। তাওহিদ হৃদয় ও অভিজ্ঞ মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ বাদে ব্যর্থ হয়েছেন সবাই। রিয়াদ ও হৃদয়ের ব্যাটে ভর করেই নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৫৩ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। টাইগারদের পক্ষে হৃদয় ৫৮ ও রিয়াদ করেন ৩১ রান। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে স্টিভেন টেইলর নেন ২ উইকেট।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button