চট্টগ্রামে খতনা করাতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু: ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

চট্টগ্রাম নগরে খতনার জন্য ভর্তি হওয়া মোহাম্মদ মোস্তফা (৭) নামে এক শিশুর ‘ভুল চিকিৎসায়’ মৃত্যুর অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বুধবার (৬ জানুয়ারি) জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে ৫ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটি গঠন করা হয়।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলমের সই করা এক আদেশে কমিটিকে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

আহ্বায়ক: ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার।

সদস্য সচিব: সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এমও (ডিসি) ডা. মো. নুরুল হায়দার।

সদস্য: ডা. মোহাম্মদ রাজিব হাসান (অ্যানেসথেসিয়া), ডা. নিগহাত জাবীন (সার্জারি) এবং ডা. মো. রাশেদুল ইসলাম (শিশু)।

গত ৩ জানুয়ারি নগরের বহদ্দারহাট এলাকার ‘সেইফ হেলথ কেয়ার হাসপাতালে’ অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতির সময় শিশু মোস্তফার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। ওইদিন রাতেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মোস্তফার বাড়ি বোয়ালখালী উপজেলার পূর্ব গোমদণ্ডি গ্রামে; তার বাবার নাম আবু মুসা।

আবু মুসা অভিযোগ করেন, অ্যানেসথেসিয়া ব্যবহারে ত্রুটির কারণেই তার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। তিনি জানান, চমেক হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ জুনাইদ চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রে শিশুর প্রস্রাবের রাস্তায় জন্মগত ত্রুটি ‘গ্ল্যানুলার হাইপোস্প্যাডিয়াস’ শনাক্ত করা হয়েছিল, যার জন্য জেনারেল অ্যানেসথেসিয়া দিয়ে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া হয়।

হাসপাতাল থেকে দেওয়া মৃত্যুসনদে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়াকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে খতনার মতো একটি নিয়মিত প্রক্রিয়ায় সন্তানের মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না পরিবারটি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button